জেব্রাক্রসিং কবিতাটি কবি ইমরান ইভান এর "ভাবনার শহর" কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। মানুষের রোজকার জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, টানা-পোড়নের ভাবনাগুলো এই গ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। জেব্রাক্রসিং একটি রূপকধর্মী কবিতা। শহরের রাস্তার জেব্রাক্রসিংগুলো প্রায় অকেজো, মানুষ শর্টকাটে রাস্তা পার হয়ে যায়। অল্প সংখ্যক সুনাগরিক আছে যারা ট্রাফিক নিয়ম মেনে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হয়।
জেব্রাক্রসিং কবিতাতে দেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষিত বেকার যুবকের মনের কষ্ট-কথা গুলো ফুটিয়ে তুলা হয়েছে। যথেষ্ট মেধা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতা আর ঘুষের টাকার অভাবে লাখো বেকার কোন চাকরি পাচ্ছে না। অনেক মেধাবী শুধুমাত্র নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উপর ভর করে সঠিক পথে হেঁটে জীবনের লক্ষে পৌঁছাতে পারছে না। অন্যদিকে চাটুকার দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা বিভিন্ন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে তাদের কাঙ্ক্ষিত চাকরি, পদবী ও সুবিধা সহজেই বাগিয়ে নিচ্ছে।
জেব্রাক্রসিং সঠিক পথে হাঁটা নীতিবান যুবকের গল্প।
জেব্রাক্রসিং
- ইমরান ইভান
(বইঃ ভাবনার শহর)
নষ্ট ঘড়ির কাঁটার মত জীবন আটকে আছে দুই সময়ে!
খারাপ সময় অথবা অতি খারাপ সময়।
ঋতু বদলায়, আমার চোখে এখনো শিশির বিন্দু।
শীত শেষে আসে কালবৈশাখী, তারপর আবার শীত
থতমত হয়ে পড়ে থাকি বনসাইয়ের মতো।
বর্ষার কদম, শরতের কাশফুল, হেমন্তের শিউলি
অথবা বসন্তের কৃষ্ণচূড়া দেখা হয় না চোখ মেলে।
জীবন, টবে সাজিয়ে রাখা ফুলের মত নয়,
কণ্টকাকীর্ণ পথ হেঁটেই জীবন পাড়ি দিতে হয়।
তবুও কাঁটাকে অগ্রাহ্য করে যে ফুল ফোঁটার কথা
সেই ফুল আদৌ স্পর্শ করা হয়নি।
এই শহরের অলিগলি, ফুটপাত, ইউটার্ন, স্টপেজ, সিঁড়ি হেঁটে
একটা জীবিকা চেয়েছিলাম।
কোথাও কোনো বিলবোর্ড, পাগল, হকার
অথবা ভিক্ষুক হিসেবেও দাঁড়াতে পারিনি।
সাহেবদের আশীর্বাদ ছাড়া জায়গা পাওয়া দুষ্কর।
আর তোমরা সার্টিফিকেটের কথা বলো?
এই কাগজগুলো জেব্রাক্রসিংয়ের মতো অকেজো
মানুষ অন্যপথে রাস্তা পার হয়।
শোকসভায় শোকের চেয়ে শো-অফ চলে বেশি!
তৈলমর্দন ব্যতিত টিকে থাকা কঠিন।
অথচ আমি তেলের পরিবর্তে জ্ঞান উৎপাদনে ব্যস্ত।
এইসব জ্ঞানের আলো দিনের জোনাকির মত,
জ্বলে কিংবা নিভে - কারো চোখে পড়ে না।
চাইলেই রাতে জ্বলে উঠতে পারতাম-
কিন্তু আমি অন্ধকার পথটা বেছে নিতে চাইনি।
0 মন্তব্যসমূহ